২০২৫ সালে অক্টোবরে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে ভুয়া টিপসই নিয়ে ৫৭ জেলের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নারিশা ইউনিয়নের প্রশাসক মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দোহার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঐ ৫৭ জন জেলে।
অভিযোগে বলা হয়,আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী কার্ডধারী জেলেগণ ২০২৫- ২০২৬ অর্থবছরে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণে বিরত ছিলাম। গত অক্টোবরে নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের মাসটাররোলে আমাদের নামে বিতরণকৃত চাল আমরা পাইনি। অনুগ্রহপূর্বক বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে নারিশা ইউনিয়নের প্রশাসক মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমরা তো কে লোক ,তাকে চিনি না।”
প্রত্যেকটি জেলে কার্ডে ঐ জেলের ছবি দেওয়া থাকে। ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণ করতে হয়।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা মুন্নী বলেন, জেলেদের চাল বিতরণের সাথে আমি সরাসরি জড়িত না। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানাব।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নারিশা ইউনিয়নে ২৩৩ জন জেলের মাঝে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। চাল বিতরণের মাস্টার রোলে ২৩৩ জেলের নাম,পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জেলে নিবন্ধন (এফআইডি) নম্বরের পাশে ঐ ২৩৩ জেলেরই টিপসই দেওয়া হয়েছে। কোনো জেলেরই স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি।
মাস্টাররোলে তালিকায় থাকা চাল না পাওয়া ৪৮ জন জেলেই নিজের হাতে স্বাক্ষর করে দোহার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যারা অভিযোগ দিয়েছেন তারা হলেন :
নারিশার মৃত ইউনুস মোল্লার ছেলে চঞ্চল মোল্লা, মেঘুলার আর্শেদ মাদবরের ছেলে বোরহান মাদবর, মেঘুলার আলম খাঁর ছেলে নুরজামাল, মেঘুলার মোহাম্মদ বেপারীর ছেলে মো.লিটন বেপারী, নারিশা পশ্চিমচরের মৃত শেখ মজিদের ছেলে আবদুল মোতালেব, নারিশার মৃত শেখ ইব্রাহিম কবিরাজের ছেলে ফয়জল কবিরাজ, দক্ষিণ শিমুলিয়ার রশিদ খালাসির ছেলে নান্নু খালাসী, মেঘুলার মুসলেম শিকদারের ছেলে ইলিয়াস শিকদার, দক্ষিণ শিমুলিয়ার মৃত আর্শেদ আলী ফকিরের ছেলে নুরু ফকির, দক্ষিণ শিমুলিয়ার মৃত মুলাই মাদবরের ছেলে মজিবর, মেঘুলার মৃত আক্কেল কাড়ালের ছেলে খালেক কাড়াল, দক্ষিণ শিমুলিয়ার রশিদ খালাসীর ছেলে জাহাঙ্গীর খালাসী, নারিশার মৃত ইলাজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে ইউনুস বেপারী, নারিশা পশ্চিম চরের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে নুর ছালিম, মেঘুলার রহমান খানের ছেলে ছয়ফল খান, মেঘুলার খালেক মোল্লার ছেলে ইদ্রিস মোল্লা, মেঘুলার মৃত সিকিম আলীর ভরদারের ছেলে জহুরুদ্দিন ভরদার, মেঘুলার মৃত আলাউদ্দিন দেওয়ানের ছেলে ইসলাম দেওয়ান, মেঘুলার মোতালেব মুন্সির ছেলে নুহু মুন্সি, মেঘুলার শিকিমালী বেপারীর ছেলে হাবীব, দক্ষিণ শিমুলিয়ার মৃত পরান বেপারীর ছেলে রশিদ বেপারী, মেঘুলার শেখ তালেবের ছেলে শেখ শহিদ, দক্ষিণ শিমুলিয়ার জনাবালী শিকদারের ছেলে জামাল শিকদার, মেঘুলার মৃত রহমান খালের ছেলে নুরু খান, মেঘুলার আদম দেওয়ানের ছেলে কালাম দেওয়ান।
মেঘুলার সম্ভু দাসের ছেলে সুমন দাস, মেঘুলার স্বদেপ দাসের ছেলে সজল দাস, নারিশা পশ্চিমচরের মৃত শেখ আহাদির ছেলে জাকির হোসেন, নারিশা পশ্চিমচরের মৃত মঙ্গল ঢালীর ছেলে ইসলাম ঢালী, নারিশা পশ্চিম চরের মৃত শেখ হায়েমের ছেলে শেখ দেলোয়ার, নারিশা পশ্চিম চরের মৃত মান্নান সরদারের ছেলে দাদন সরদার, নারিশা পশ্চিম চরের মৃত গুঞ্জর মোল্লার ছেলে মো. শাহজাহান মোল্লা, নারিশা পশ্চিম চরের চানমিয়া শেখের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন, নারিশা পশ্চিম চরের আ. বারেকের ছেলে মো. রুবেল, মেঘুলার আরশেদ মাদবরের ছেলে মো. সোহরার মাদবর, মেঘুলার পানুদাসের ছেলে মিঠুন দাস, মেঘুলার জব্বর খানের ছেলে আ. ছালাম, মেঘুলার জৈনদ্দিন হাওলাদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, মেঘুলার আ.খালেক কাড়ালের ছেলে হযরত আলী, মেঘুলার মাখন দাসের ছেলে ননী গোপাল দাস, মেঘুলার নারায়ন রাজবংশীর ছেলে পরিতোষ রাজবংশী, মেঘুলার ভরত রাজবংশীর ছেলে মহাদেব রাজবংশী, নারিশা পশ্চিম চরের কমল কৃষ্ণ দাসের ছেলে বাসুদেব দাস, দক্ষিণ শিমুলিয়ার কাদের খাঁর ছেলে হালান খাঁ, মেঘুলার নরেশ রাজবংশীর ছেলে পঙ্কজ রাজবংশী, মেঘুলার মৃত সমূল রাজবংশীর ছেলে রামপ্রসাদ রাজবংশী, দক্ষিণ শিমুলিয়ার জয়নাল ফকিরের ছেলে সুমন হোসেন, নারিশা খালপাড়ের মৃত শেখ জাবেদ আলীর ছেলে জাহেদ, নারিশার মৃত নওয়াব আলীর শিকদারের ছেলে মালেক শিকদার, নারিশা পশ্চিম চরের মৃত আ. রহিমের ছেলে শেখ আ. সালাম, মেঘুলার গোবিন্দ্র রাজবংশীর ছেলে গোপীনাথ, মেঘুলার ভরত রাজবংশীর ছেলে অরুণ রাজবংশী, মেঘুলার মেঘলাল রাজবংশীর ছেলে নারায়ণ রাজবংশী, মেঘুলার মেঘলাল রাজবংশীর ছেলে লক্ষ্মণ রাজবংশী, মেঘুলার মানিক রাজবংশীর ছেলে সুমন রাজবংশী, মেঘুলার হরিপদ রাজবংশীর শংকর রাজবংশী, দক্ষিণ শিমুলিয়ার শেখ তালেবের ছেলে তারা মিয়া।