আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে দোহার পৌরসভার ২৮ তম বাজেট ঘোষণা দিয়েছেন দোহার পৌরসভার প্রশাসক মো.মাঈদুল ইসলাম।
৩০ জুন,২০২৬ দোহার পৌরসভার কার্যালয়ে দোহার পৌরসভার ২০২৬ -২০২৭ অর্থবছরের ৪৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ২৮ তম বাজেটের ঘোষণা করেছেন দোহার পৌরসভার প্রশাসক মো. মাঈদুল ইসলাম।
পৌরসভা আইন ২০০৯ এর ধারা ৯২ এ বলা হয়েছে,” প্রতি অর্থ বছরের শুরু হইবার পূর্বে, পৌরসভা উক্ত বছরের আয় ও ব্যয় সংবলিত বিররণী,অত:পর প্রাক্কলিত বাজেট বলিয়া উল্লিখিত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রণয়ন ও অনুমোদন করিবে এবং উহার একটি করিয়া অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার অথবা সরকার কতৃক নির্ধারিত অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।প্রাক্কলিত বাজেট সম্পর্কে জনগণের মন্তব্য ও পরামর্শ বিবেচনাক্রমে পৌরসভা সংশ্লিষ্ট অর্থবছর শুরু হইবার ত্রিশ দিন পূর্বে বাজেট অনুমোদন করিয়া উহার একটি অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার অথবা সরকার কতৃক নির্ধারিত অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।”
পৌরসভার বাজেট (প্রণয়ন ও অনুমোদন) বিধিমালা ১৯৯৯ এর বিধি ৪ এ বলা হয়েছে,” বাজেটে প্রত্যেক খাত এবং উপখাতের আয় ও ব্যয় পৃথকভাবে দেখাইতে হইবে।”
৩০ জুন, ২০২৬ দোহার পৌরসভার কার্যালয়ে ঘোষিত ২৮ তম বাজেটের অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন জানান,”তাদের হাতে ঘোষিত বাজেটের যে কয়টি পৃষ্ঠা দেওয়া হয়েছে তাতে বাজেটের আয় ও ব্যয়ের খাত এবং উপখাতে, কতটাকা? কোন খাতে? খরচ করা হবে তার সুস্পষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয় নি।”
বাজেটে সাধারণত পূর্ববর্তী অর্থবছরের ব্যয়, পূর্ববর্তী অর্থবছরের সংশোধিত ব্যয় উল্লেখ থাকে।
২০২৫ -২০২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন উপখাতে প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল,
জিপগাড়ি মেরামত ব্যয় ১০ লাখ টাকা, জিপগাড়ির জ্বালানি ব্যয় ৫ লাখ টাকা, পিক- আপ গাড়ির মেরামত ও জ্বালানি ব্যয় ১০ লাখ টাকা, মোটর সাইকেল (রেজি.মেরামত) ব্যয় ৩০ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত এবং এক্সেসরিজ ক্রয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা, ফটোস্ট্যাট মেশিন মেরামত এবং এক্সেসরিজ ক্রয় ব্যয় ২ লাখ টাকা,সফটওয়্যার সার্ভিস ক্রয় ২ লাখ টাকা, জেনারেটরের জ্বালানি ও মেরামতের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৫ লাখ টাকা।
২০২৫- ২০২৬ অর্থ বছরে বিজ্ঞপ্তি বিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পত্রিকা বিল ৩ হাজার টাকা, অফিসের জন্য মনোহরী দ্রব্যাদি ক্রয় ব্যয় ৬ লাখ টাকা, মাইকিংয়ের জন্য ১ লাখ টাকা, ডাক খরচ ব্যয় ২৫ হাজার টাকা, মুদ্রণ (সাধারণ) এর জন্য ৩ লাখ টাকা, মুদ্রণ (কর)এর জন্য ৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
এছাড়া ২০২৫ – ২০২৬ অর্থ বছরে অডিটের জন্য ১ লাখ ৫ হাজার, মামলার জন্য ৩ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
‘অভ্যর্থনা ও আপ্যায়নের’ জন্য প্রস্তাব বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল আর বাজেট সংক্রান্ত ব্যয়ের প্রস্তাব ছিলো ৩ লাখ টাকা। কর নির্ধারণ ও কর আদায় মেলার ব্যয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল ৭ লাখ টাকা। শ্রেষ্ঠ হোল্ডিং করদাতাদের এওয়ার্ড প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল গত বছরের ২৭ বাজেটে।
এছাড়াও গত বছরের পৌরসভার ২৭ তম বাজেটে ‘বিবিধ ব্যয়, ধরা হয়েছিল ৩ লাখ টাকা।
২৭ তম বাজেটে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদানের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, লাইব্রেরির জন্য বইপুস্তক ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য ১ লাখ টাকা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার জন্য ৫ লাখ টাকা, পৌর এলাকার কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা, বৃত্তি ও অনুদানের প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
ব্যক্তি পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসা অনুদানের জন্য ৩ লাখ টাকা, স্যানিটেশন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালনের জন্য ১ লাখ টাকা, মশক নিধন ও ঔষধ ক্রয়, এবং ফগার মেশিন ক্রয়/ মেরামতের ও উপকরণ ক্রয় করার জন্য ১৫ লাখ টাকা, নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা, জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২৭ তম বাজেটে ২লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২ লাখ টাকা, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল দোহার পৌরসভার ২৭ তম বাজেটে।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উপকরণ ক্রয় বাবদ ব্যয়ের জন্য ৩ লাখ টাকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মঞ্জুরির জন্য ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নর্দমা পরিষ্কার করার জন্য ১০ লাখ টাকা, গার্বেজ ট্রাক, গার্বেজ ভ্যান ক্রয় ও মেরামতের জন্য ১০ লাখ টাকা, গার্বেজ ট্রাক জ্বালানি ব্যয় ১০ লাখ টাকা, ডাম্পিং/ কনটেইনার বাবদ ব্যয়ের জন্য ৩ লাখ খরচের প্রস্তাব করা হয়েছিল গত বছরের পৌরসভার বাজেটে।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উপকরণ ক্রয় বাবদ ব্যয়ের জন্য ৩ লাখ টাকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মঞ্জুরির জন্য ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নর্দমা পরিষ্কার করার জন্য ১০ লাখ টাকা, গার্বেজ ট্রাক, গার্বেজ ভ্যান ক্রয় ও মেরামতের জন্য ১০ লাখ টাকা, গার্বেজ ট্রাক জ্বালানি ব্যয় ১০ লাখ টাকা, ডাম্পিং/ কনটেইনার বাবদ ব্যয়ের জন্য ৩ লাখ খরচের প্রস্তাব করা হয়েছিল গত বছরের পৌরসভার বাজেটে।
শহর সমন্বয় কমিটির কার্যক্রম ব্যয় ৩ লাখ টাকা, ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রম ব্যয় ২ লাখ টাকা, সিবিও কার্যক্রম ব্যয় ২ লাখ টাকা, দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যয় ২ লাখ টাকা, জেন্ডার একশন প্ল্যান বাস্তবায়ন ব্যয় ৫ লাখ টাকা, উন্নয়ন পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভার ব্যয় ৫ লাখ টাকা,তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন ব্যয় ২ লাখ টাকা, বেওয়ারিশ লাশ দাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদানের ২ লাখ টাকা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে অনুদানের জন্য ৩ লাখ টাকা,
জাতীয় দিবস উদযাপনের জন্য ৮ লাখ টাকা, মিলাদ অনুষ্ঠান ইত্যাদির জন্য ১ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার দিবস ও উন্নয়ন মেলার জন্য ১ লাখ টাকা, তারুণ্যের উৎসব/ তারুণ্যের মেলার জন্য ৩ লাখ টাকা, রোড রোলার মেরামতের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, রোড রোলার জ্বালানি ব্যয় ২৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার – ল্যাপটপ ক্রয় ব্যয় ২ লাখ টাকা,সফটওয়্যার ক্রয়/ ওয়েব ডিজাইনের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অত্যাধুনিক মাইক,ব্যাটারি ও আনুষ্ঠানিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা, টেলিফোন/ইনটারকম,সিসি ক্যামেরা ক্রয় বাবদ ব্যয় ৩ লাখ টাকা, জেনারেটর / আইপিএস ক্রয় ব্যয় ৩ লাখ টাকা এবং প্রজেক্টর ক্রয়ের জন্য ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে দোহার পৌরসভার ২৭ তম বাজেটে।
আসবাবপত্র ও ক্রোকারিজ ক্রয়ের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যানবাহন ক্রয়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পৌর অফিস ভবনের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের জন্য ৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল গত বছরের বাজেটে।
ত্রাণ ও পরিবহন খরচের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ৩ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল ২৭ তম বাজেটে।
আর ২৭ তম বাজেটে খাত বহির্ভূত অপ্রত্যাশিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ লাখ টাকা।
“বাজেটে জনগণের জন্য দেওয়া পৃষ্ঠাগুলোতে উপখাত উল্লেখ করা হয় নি, তাহলে জনগণ মতামত দিবে কীভাবে? “…. এমন প্রশ্নের জবাবে দোহার পৌরসভার প্রশাসক মো. মাঈদুল ইসলাম বলে, উপখাত জিনিসটা কী ? আপনি এ বিষয়ে পৌরসভার বাজেট সংশ্লিষ্ট অফিসারের সাথে যোগাযোগ করেন।”