সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন ঘোষণা করেছেন । ফাসিস্টদের বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার,জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র, জন-আকাঙ্ক্ষা সব কিছুকে উপেক্ষা করে, কোনো কিছুই সম্পূর্ণ না করে তিনি নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন ঘোষণা করলেন। সরকারের প্রধান হয়ে তিনি কি রাজনৈতিক দল বিএনপির কাছে আত্মসমর্পণ করলেন ? শুধু কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে পরামর্শ করে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিলেন তা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে না ত? রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে এদেশে যে বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে ইউনুস কি তাদের অভিব্যক্তি বুঝার চেষ্টা করেছেন ?
তিনি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে একটি গণভোট নিতে পারতেন।
এর আগে ২৮ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসো টোকিওর ইমপেরিয়াল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে ড. ইউনুস বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে আগামী বছরের জুনের মধ্যে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টাকে অনুসরণ করে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলমও চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়টি প্রেসব্রিফিংয়ে জানিয়ে দেন।
বিএনপি ডিসেম্বরেই নির্বাচন করে ক্ষমতায় যেতে অস্থির হয়ে আছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে কাজগুলো জনগণ প্রত্যাশা করে জুনের মধ্যে নির্বাচন করতে গেলে তার কিছুই করতে পারবে না। ঈদুল আজহার আগের দিন ড. ইউনুস জুনের দুই মাস এগিয়ে এপ্রিলের প্রথমার্ধের যেকোনো দিন নির্বাচন হবে বলে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে দেশবাসীকে জানিয়ে দিলেন। তিনি কী বিএনপির চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করেই নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন ঘোষণা করলেন ?
বহুস্বপ্ন নিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ, আধুনিক আইনের শাসনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও জুলুম হতে মুক্তির নেশায় মানুষ বন্দুকের নলের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কি তা হলে স্বপ্নই থেকে যাবে ? বাস্তবে মুক্তির স্বাদ কি এদেশের মানুষ কখনওই পাবে না !
প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দল না থাকায় বিএনপি রাজনীতির মাঠে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছে। ভারতীয় চক্রান্ত, নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, দুর্নীতিবাজ আমলা ও তাদের দালালরা চক্রান্ত করছে যাতে বাংলাদেশে নতুন কিছু সৃষ্টি না হয়। তাদের দুর্নীতির শাসন বজায় থাকে এবং তারা দুর্নীতি করে পার পেয়ে যায়। যাতে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি দাঁড়াতে না পারে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি কমলেও রাজনৈতিক দলাদলি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ঘুস,দুর্নীতি এখনো আগের মতই আছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটুকু উন্নতি হয়েছে তাকে আইনের শাসন বলা চলে না। বিএনপির পেশিশক্তি ও তাদের বিভিন্ন দল -উপদলের শোডাউনের যে আতংক নিরীহ নাগরিক ও ভোটারের মধ্যে আছে তা দূর করতে না পারলে তারা কীভাবে স্বাধীন মতামতের প্রয়োগ ঘটাবে?
এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রবাজরা যেখানে প্রকাশ্যে পোস্টারিং করে নেতার আসনে বসতে চায় সেখানে মানুষ নির্ভয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট দিবে কীভাবে?
পরিবেশ সৃষ্টি না করে নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন ঘোষণার মধ্যদিয়ে দেশমূলত বড় ধরনের সংঘাত বা গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি “আধুনিক রাষ্ট্র” না হয়ে একটি পরিবার ও একটি দলের কাছে আবারও জিম্মি হয়ে যাচ্ছে ।
এর জন্য দায়ী কে ? ইউনুস সরকার নাকি সেই শক্তিশালী দল যে কিনা সরকারের চেয়েও শক্তিশালী।….. এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।