বুটলিকার পলিটিশিয়ান হতে সাবধান : রোকনুজ্জামান বিপ্লব

বুটলিকার পলিটিশিয়ান হতে সাবধান:
রাজনীতি হলো সমাজের নীতি-নির্ধারণ, ক্ষমতা বন্টন এবং সম্পদ বিতরণের সাথে জড়িত একটি প্রক্রিয়া। এটি সরকার, রাজনৈতিক দল, এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও কার্যক্রমকে নির্দেশ করে। সহজভাবে, রাজনীতি বলতে বোঝায়, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ক্ষমতা প্রয়োগের প্রক্রিয়া। সরকার এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে নীতি ও আইন তৈরি এবং তা বাস্তবায়ন করা। রাজনৈতিক দল, সরকার এবং অন্যান্য সংস্থার গঠন ও পরিচালনা। জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, তাদের মতামত এবং অংশগ্রহণের ক্ষেত্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ, আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাজনীতি একটি জটিল প্রক্রিয়া যা সমাজের বিভিন্ন দিককে প্রভাবিত করে।
আজকালকার তথাকথিত রাজনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে আছে এই সকল গুন? যদি না থাকে, তাহলে তারা নিজেদের কীভাবে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়?
আমি রাজনীতি ভালোবাসি কিন্তু নোংরা রাজনীতি কে পছন্দ করি না। শুধু আমি না, এই দেশের যোজন যোজন মানুষ আছে যারা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি ধারণ করে, ভালোবাসে। আশেপাশের বুটলিকার পলিটিশিয়ানদের কর্মকাণ্ড দেখে তারা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর, ঐ সকল বুটলিকার পলিটিকাল পার্সনরা তখন আমাদের “আই হেইট পলিটিক্স” বলা পাব্লিক মনে করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে নিজে নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতে উঠে। নিজে তো ধ্বংস হয়-ই সাথে তার নেতাদের এবং দলের ধ্বংস নিশ্চিত করে। এই বুটলিকার পলিটিকাল পার্সন সবসময় এক্টিভ। তার কারণ, যদি কোনো ফাঁকফোকড় দিয়ে কোনো সত্যিকারের ত্যাগী কেউ নেতার কাছাকাছি চলে আসে তখন তো তার কদর কমে যাবে। এই ভয়ে বুটলিকার রা সব সময় নেতার পিছে ঘুরঘুর ঘুরঘুর করতে থাকে আর তোষামোদি তো আছেই। মাঝখান থেকে নেতার এবং দলের ভবিষ্যৎ খেয়ে বর্তমানে ফুলেফেঁপে উঠছে এই সকল বুটলিকার রা।
বুটলিকার কারা?
এরা সেই মানুষ, যারা নিজের বিবেক, আত্মসম্মান এবং ন্যায়নীতি বিসর্জন দিয়ে শুধু ক্ষমতার কাছে নিজেকে বিকিয়ে দেয়। তারা সত্যকে আড়াল করে, অন্যায়ের পাশে দাঁড়ায় শুধু সুবিধা পাওয়ার আশায়। সত্য বললে দুশমন হয়, পা চাটলে প্রমোশন হয়, এই হচ্ছে বর্তমান তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থা। আজকের সমাজে মেরুদণ্ড সোজা রেখে চলা লোকের চেয়ে, চামচাদের কদর বেশি। চামচারা নেতা তৈরি করে না, তারা নেতাকে অন্ধ করে ফেলে। কারণ, তারা সব ভুলকেও সঠিক বলে বাহবা দেয়। পা চাটা চামচারা নিজের নয়, নেতার চাটুকারিতা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত হয়ে থাকে। একদিন নেতার নেতাগিরি চলে গেলে, তারাও হারিয়ে যায়। কারণ, তাদের নিজস্ব কোনো পরিচয়ই থাকে না, তাদের পরিচয় হলো, তারা বুটলিকার। বুটলিকার গন কখনোই গঠনমূলক সমালোচনা করে না, শুধু তোষামোদ জানে। এর ফলে নেতাও নিজের ভুল বুঝতে পারে না, শেষমেশ পতন হয়। তারা শুধু সুবিধাবাদী, যেদিকে বাতাস সেদিকেই মাথা ঝোঁকায়। আদর্শ, নীতি, বিবেক এই জাতীয় শব্দ তাদের মস্তিষ্কে নেই।
বর্তমান রাজনীতি সহজ ভাবে বুঝানোর জন্য ছোট্ট দুইটি ঘটনা বলি। প্রথম ঘটনা,, উপজেলা পর্যায়ের একনেতার দীর্ঘদিনের বাসনা তার দলের বড় কোনো নেতাকে নিজ বাসায় নিমন্ত্রণ করবেন। দিন যায়, মাস যায় নেতার পিছে ঘুরে ঘুরে অবশেষে একদিন তার দলের সর্বোচ্চ নেতাদের মধ্য থেকে একজনকে তার বাসায় দাওয়াত করলেন। বাড়ির সবাই মিলে ভালো ভালো রান্না করলেন, আপ্যায়নের কোনো ত্রুটি যেন না হয় তার সব রকমের ব্যবস্থা করলেন। তারপর সেই ইচ্ছে পূরনের দিন ঘনিয়ে এলো নেতা আসলেন। সবাই মিলে বড় নেতার খাতির যত্ন করতে থাকলেন। একপর্যায়ে বড় নেতা হুংকার দিয়ে উঠলেন, এই কোন বদমায়েশের বাচ্চা এই মাছ আমার সামনে রাখছে রে, পঁচা মাছ। আরও কিছু বকাঝকা করে নেতা খাওয়া শেষ করলেন। মাছটা ক্রয় করছিল ছোট নেতার বাপ। বড় নেতা যখন বকাঝকা করতেছিল ছোট নেতা তখন তার পিছনে দাঁড়িয়ে তোষামোদে ব্যস্ত ছিল।
কী বুঝলেন? এই হলো রাজনীতি! নিজের বাড়িতে এসে খাচ্ছে, নিজের জন্মদাতা পিতাকে গালিগালাজ করছে তারপরেও কোনো প্রতিবাদ নাই। জুতা মারলেও নেতার পা চাটতে হবে, এই হলো আমাদের রাজনৈতিক দলের নেতাদের বর্তমান অবস্থা! দ্বিতীয় ঘটনা,, ঐযে একটা কৌতুক আছে, ছেলের সামনে বাপরে জুতাপেটা করতেছে। এমন সময় পিছন থেকে একজন বললো, তর বাপরে যে জুতাপেটা করতেছে তুই কিছু বলছ না ক্যান? ছেলে বলে, সাহস থাকলে আমাকে একটা মেরে দেখুক আমি কী করি! এই ঘটনা দুইটা দ্বারা বর্তামানের বুটলিকার পলিটিশিয়ানদের বাস্তব চিত্র পরিলক্ষিত হয়।
আমাদের সমাজে বা আমাদের দেশে যারা নিজেদের রাজনীতিবিদ মনে করে তারা কি আসলে রাজনীতির ধারেকাছে আছে? তারা তো পকেটনীতি আর হেডমনীতি নিয়ে সারাক্ষণ আইনাচারি বাইনাচারি করে। কোনো নেতার দুই মিনিটের বক্তব্য যদি আপনি বিশ্লেষণ করেন তাহলে দুই চারটা ভুল বের করতে পারবেন খুব সহজেই। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কর্মী তার নিজ দলের কোনো বড় নেতার একটা ভুল নিয়ে সমালোচনা করতে দেখছেন? দেখেন নাই! যে, যেই দলই সমর্থন করুক, কখনো নিজ দলের কোনো ভুল যাদের চোখে পড়ে না, তারা আর যাইহোক রাজনীতিবিদ না। হয় তারা দলকানা, না হয় বুটলিকার! খেয়াল করে দেখবেন, এক দলের পাতিনেতা অন্যদলের সর্বোচ্চ নেতার ভুল ধরে তাকে তুলোধুনো করে। সেই পাতিনেতাকে আপনি কি বলবেন রাজনীতিবিদ? নাকি অন্ধ বুটলিকার?
এই ধরনের চাটুকার নেতারা যেমন দলের জন্য ক্ষতিকর তেমনি সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও হুমকি। এরা না পারে দলের সুনাম বয়ে আনতে, না পারে দলের ভাবমূর্তি জনগণের কাছে উজ্জ্বল করতে। এরা পারে শুধু পা চাটতে। এদের আচার ব্যবহারে আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা পুরো দলকে ঘৃণার চোখে দেখি। সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আর দল হয়ে যায় শুধুই পাতিনেতাদের। একসময় জনগণ থেকে এতো দূরে চলে যায় যে, তাদের নাম মুখে নিতেও মানুষ ঘৃণা করে। যার বাস্তব চিত্র বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বড় বড় দলগুলো।
শিক্ষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *