নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বর্তমান সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,” সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন।” জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন ২০২১ অনুসারে, “প্রত্যেক আদমশুমারির পর পরবর্তী জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন নতুন করে আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে পারবে।”
৩০ শে জুলাই ২০২৫ তারিখে নির্বাচন কমিশন প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জনসংখ্যার বাস্তব বিভাজনকে যতদূর সম্ভব বিবেচনায় রেখে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে একটি প্রাথমিক তালিকা করে।
সীমানা পুনঃনির্ধারণে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে তার মধ্যে ….
উপজেলা /থানা ইউনিটকে অখণ্ডতা বজায় রাখা,উপজেলার, সিটি করপোরেশন ও ওয়ার্ডের অখণ্ডতা বজায় রাখা, ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ডে ও পৌরসভার একাধিক সংসদীয় আসনের মধ্যে বিভাজন না করা, সিটি করপোরেশন এলাকার জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা , প্রশাসনিক পরিধি বিবেচনায় নির্বাচনী এলাকা পুনঃবিন্যাস করা, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করা, যতদূর সম্ভব ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য (নদী) ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যথা জনগণের যাতায়াতব্যবস্থা,সুবিধা ও অসুবিধা বিবেচনা করা হয়েছে।
জেলার মধ্যকার আসনের ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
দোহার উপজেলার পশ্চিমে নদী ও ফরিদপুর জেলার সীমানা, দক্ষিণে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা, উত্তরে মানিকগঞ্জজেলার সীমানা ।
শুধু পুর্বেই ঢাকা জেলার সীমানা। তাই সীমানা হিসেবে সংযোজন বিয়োজন পুবদিকেই হতে পারে।
৭ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে দোহারের পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১০৭৪৩৮ জন, মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১০৩২১৮ জন, একজন হিজড়া ভোটারসহ মোট দোহার উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২১০৬৫৭ জন।
অই গেজেটে প্রকাশিত সবচেয়ে কম ভোটারের আসন ছিলো ঝালকাঠি ১ আসনে। সেখানে ঝালকাঠি ১ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ২১২০০৮ জন।
দেশের সবচেয়ে কম ভোটারের আসনেও (ঝালকাঠি ১, রাজাপুর +কাঠালিয়া) দোহার উপজেলার চেয়ে ১৩৫১ জন ভোটার বেশি ছিলো।
২০২৩ এর গেজেটে নবাবগঞ্জ উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ৩০২৯৫২ জন।
আদমশুমারি বা শুধু জনসংখ্যার ভিত্তিতে বা নির্বাচন কমিশনের পদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দোহার উপজেলা সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে সীমানা পুনঃনির্ধারণে অগ্রাধিকার পায় না। স্বাধীনতার আগে ও পরে দোহার উপজেলা ও এই ভূখণ্ডের জনগণের রয়েছে আলাদা ইতিহাস, রয়েছে নিজস্ব স্বকীয়তার বৈশিষ্ট্য।
চাইলে নির্বাচন কমিশন দোহার উপজেলাকে পৃথক নির্বাচনী এলাকা হিসেবে সীমানা পুনঃনির্ধারণ করতে পারে।
জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন – ২০২১ এর ধারা ৮এর উপধারা ১ এর (খ) তে বলা হয়েছে,” কমিশনের নিকট অন্য কোনো কারণ উপযুক্ত বিবেচিত হইলে উহা লিপিবদ্ধ করিয়া, জাতীয় সংসদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে।” নতুন করে আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে পারে।
আমিনুর রহমান