অবৈধভাবে চলছে দোহারের রাইপাড়া স্কলার্স হাই স্কুল।নেই পাঠদানের অনুমতি, নেই কোনো নিবন্ধন। নিচ্ছে সরকারি বই। ২০২১ সালে দোহারের পালামগঞ্জের রাইপাড়া গ্রামে রাইপাড়া স্কলার্স হাই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন জনাব একলাল উদ্দিন আহমেদ।
রেজিস্ট্রেশন অফ প্রাইভেট স্কুল অর্ডিন্যান্স ১৯৬২ অনুযায়ী, আইন না মেনে, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বেসরকারি কোনো স্কুল প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনা করতে পারে না।
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা ২০১১ অনুসারে,বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন ও প্রিপ্যারেটরি বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক অনুমতি নিতে হবে। এই প্রাথমিক অনুমতির মেয়াদ হবে এক বছর। প্রাথমিক অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অস্থায়ী নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। শর্ত মেনে অস্থায়ী নিবন্ধন পাওয়ার পর স্থায়ী নিবন্ধন পাবে।
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা ২০২৩ অনুযায়ী, পাঠদান অনুমতির মেয়াদ থাকে পাঠদান অনুমতির তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর। এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন পূর্বে নিবন্ধনের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ না করলে পাঠদানের অনুমতি বাতিল হয়ে যাবে।
রাইপড়া স্কলার্স হাই স্কুলের সভাপতি মো.একলাল উদ্দিন আহমেদ জানায় প্রাইমারি শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি। ইআইআইএন (EIIN) সংগ্রহ করেছি। দোহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য রায়পাড়া স্কলার্স হাই স্কুলের কোনো প্রাথমিক অনুমতি নেই। তাদের কোনো নিবন্ধনও নেই।
২০১৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারিকৃত বেসরকারি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি স্থাপন, চালু ও স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালায় নিবন্ধন পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে বিদ্যালয়ের নিজস্ব নামে নামজারিকৃত ৫০ শতাংশ জমি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়।
জানা যায়, আরিফ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে পুরো রাইপাড়া স্কলার্স হাই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
ব্যবহার করছে ভুয়া EIIN নাম্বার
স্কুল নিবন্ধিত দেখাতে রাইপাড়া স্কলার্স হাই স্কুলে একটি এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বা EIIN ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে রাইপাড়া স্কলার্স হাই স্কুলের ব্যবহৃত ৩১৮০৮৭৮ নাম্বারে দোহারে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সত্যতা পাওয়া যায় নি। নাম্বারটি ভুয়া।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান( নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) স্থাপন,পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা ২০২২ ( সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয় (নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত) স্থাপনে অনুমোদন পাওয়ার জন্য পৌরসভার বাইরে হলে বিদ্যালয়ের নামে হস্তান্তরিত ও নামজারিকৃত ৭৫ শতক জমি থাকতে হবে। ভাড়াকৃত বাড়িতে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের অনুমতি পাবে না।
জানা যায়, আরিফ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে পুরো রাইপাড়া স্কলার্স হাই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
মাধ্যমিক স্কুলের অনুমতি পাওয়ার জন্য লাইব্রেরিতে দুই হাজার বই, কম্পিউটার ল্যাবে কমপক্ষে ৬টি কম্পিউটার, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মফস্বলে ১৫০ জন শিক্ষার্থীও থাকতে হবে।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক/নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংগে সংযুক্ত প্রাথমিক শাখা ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা ২০২৩ এর আওতায় নিবন্ধিত ও নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী বিদ্যালয়সমূহ সরকারি বই পাবে।
প্রাইমারি শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা (বই বিতরণ) মো. নবীর উদ্দিন বলেন,’অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া বই পাওয়ার কথা না’। বই বিতরণের বিষয়ে দোহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রকিব হাসান অনানুষ্ঠানিকভাবে জানান, ‘ইআইআইএন, চাহিদাপত্র ও একাডেমিক অনুমতি দেখে বই বিতরণ করা হয়’।
নিবন্ধন ছাড়া প্রাইভেট স্কুল চালানো অপরাধ কিনা ?
রেজিস্ট্রেশন অফ প্রাইভেট স্কুল অর্ডিন্যান্স ১৯৬২ অনুযায়ী,’কেউ এই আইন ও এর বিধি লংঘন করলে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও দশহাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তি পেতে পারে ‘।