এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি সর্বোচ্চ ১৩০৫ টাকা । নিচ্ছে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত । নীতিমালা না মেনে নিজেদের খেয়াল খুশি মতো অতিরিক্ত ফি আদায় করছে দোহারের এমপিওভুক্ত /ননএমপিওভুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা। সরকারের ফির বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায় , খেয়াল খুশি মত খাত তৈরি করে নিচ্ছে যা খুশি ফি । সরকারকে তোয়াক্কা না করে স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা এসব করছেন জেনেশুনেই। দোহারের মধুরখোলা উচ্চবিদ্যালয়, মুক্সুদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়,মুক্সুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চবিদ্যালয় , নারিশা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়,নারিশা উচ্চবিদ্যালায়, কবি নজরুল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ,মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল ও কলেজ, ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, সুতারপাড়া আব্দুল হামেদ উচ্চবিদ্যালয় ,বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ,কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় ,ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ,কাটাখালী মিছের খান উচ্চ বিদ্যালয়, লটাখোলা আজাহার আলী মেমোরিয়াল বিদ্যালয়, সুন্দরীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় , মাহমুদপুর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ড্যাফোডিলস হাই স্কুলে সরজমিনে ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে ।
নীতিমালায় মুদ্রণ/ছাপা (যেমন সিলেবাস,রেজিস্ট্রেশন,অগ্রগতিবপ্রতিবেদন ইত্যাদির জন্য) ২০ ০ টাকা, টিফিনের জন্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) মাসিক ১০০ টাকা, ম্যাগাজিন এর জন্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) বার্ষিক ৭৫ টাকা, ক্রীড়া ফি বার্ষিক ১০০ টাকা, সাংস্কৃতিক /বিতর্ক অনুষ্ঠানের জন্য বার্ষিক ৭৫টাকা, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উৎযাপনের জন্য বার্ষিক ৭৫ টাকা, বিভিন্ন ক্লাব গঠনের জন্য ২৫ টাকা , ধর্মীয় অনুষ্ঠান (মিলাদ /পূজা) এর জন্য বার্ষিক ৭৫ টাকা , লাইব্রেরি ফি বার্ষিক ২০ টাকা, কল্যাণ বা দরদ্র তহবিলের জন্য বার্ষিক ২৫ টাকা , আইসিটি প্রতিমাসে ২০ টাকা হারে বার্ষিক ২৪০ টাকা , বাগানের জন্য বার্ষিক ৬০ টাকা, ল্যাবরেটরি /গবেষণাগার এর জন্য বার্ষিক ২০ টাকা ,কমনরুমের জন্য ৫ টাকা ,পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য বার্ষিক ৫০ টাকা , অত্যাবশ্যকীয় ব্যয়ের জন্য বার্ষিক ৩০ টাকা , নবীনবরণ /বিদায় সংবর্ধনার জন্য বার্ষিক ৩০ টাকা , মসজিদ / ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) এর জন্য বার্ষিক ২০ টাকা , চিকিৎসা সেবা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) প্রদানের জন্য বার্ষিক ১০ টাকা , বিবিধ /আনুষঙ্গিক ব্যয় বার্ষিক ৫০ টাকা , উন্নয়ন ফি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) বার্ষিক পৌরসভার বাইরে হলে ২০০ টাকা , পৌরসভার ভেতরে হলে ৫০০ টাকা, বিদ্যুৎ ফি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে )পৌরসভার বাইরে হলে বার্ষিক ১০ টাকা , শিক্ষা সফরের জন্য বার্ষিক ৫০ টাকা , সাঁতার প্রশিক্ষণের জন্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ) ১০ টাকা, স্কাউট ফি নির্ধারণ করবে বোর্ড। এ সব খাতের ফি যোগ করলে কোনো ভাবেই ১৫০০ টাকার বেশি আসে না ।
অথচ কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সেশন ও বিবিধ ফি ৯৫০ টাকা,আইটি ফি ২৫০ টাকা, উন্নয়ন ফি ২০০টাকা নতুন্দের জন্য ভর্তি ফি ৩০০ টাকা,আবসর কল্যাণ ফি ১০০টাকাসহ মোট ১৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নির্মাণ ফি ২০০ টাকা ,ক্রীড়া ফি ১০০ টাকা,পাঠাগার ফি ৫০টাকা, বিজ্ঞানাগার ফি ৫০টাকা,গার্লস গাইড ফি ৫০ টাকা, গ্র্যাচুইটি ২০০ টাকা ,ম্যাগাজিন ৫০ টাকা, মিলাদ তহবিল ৫০ টাকা, বিদ্যুৎ ১০০টাকা , উন্নয়ন ফি ৭০০ টাকা , তথ্য ফরম ১০০ টাকা,আইসিটি ফি ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে ।
মাহমুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এলমা আক্তারের কাছ থেকে ফি+অন্যান্য লিখে ২৩৬০ টাকা নেওয়ার রসিদ পাওয়া গেছে । মুক্সুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দেওয়া তার টেবিলে প্রদর্শিত ছকে দশম শ্রেণির জন্য ভর্তি +সেশন ফি = ১৮৫০ টাকা লিখা আছে । বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি ফি ৩৫০ টাকা ,সেশন ১১০০ টাকা, উন্নয়ন ফি ২০০ টাকা ,বেতন ৩৫০ ,বিদ্যুৎ ২০ টাকা, বিবিধ ১০০ টাকাসহ মোট ১৭৭০ টাকা নেওয়া হয় । লটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে ভর্তি ফি ২৫০০ টাকা নেওয়া হয় । লটাখলা আজাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পুরানদের কাছ থেকে ২১০০ টাকা ও নতুনদের কাছ থেকে ২৪০০ টাকা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মজিদ বলেন, নীতিমালা লঙ্ঘন করে ফি বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই , অভিভাবকরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রকিব হাসান বলেন ,আমরা সরকারি নীতিমালাটা সব স্কুলে পাঠিয়ে দিয়েছি । সমস্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বুঝিয়ে দিয়েছি । নীতিমালা মানছে না এমন অভিযোগ আসে নি । যদি আসে আমরা স্পেসিফিকলি সেই প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করে দেখব।