সরকারি বিধি ও প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লংঘন করে জোর করে গঠন করা হয়েছে দোহার প্রেস ক্লাব। ২০২৫ সালের ১৩ই জানুয়ারি সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, তথ্যসম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদককে বিনা ভোটে নির্বাচিত করা হয়।
জানা যায়, গঠনতন্ত্র অনুসারে দোহার প্রেসক্লাবের সদস্য হতে হলে দোহারের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কোনো জাতীয় বা স্থানীয় সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থায় কর্মরত থাকতে হবে। ন্যূনতম এসএসসি পাস হতে হবে।কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারী দোহার প্রেসক্লাবের সদস্য হতে পারবে না। প্রেস ক্লাবের কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ হবে দুই বছর।
সরকারি কর্মচারী ( আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ সংশোধনী ২০০২ এর বিধি ২১ অনুসারে , “কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো সংবাদপত্র বা সাময়িকীর সম্পূর্ণ বা আংশিক স্বত্বাধিকারী অর্জন অথবা পরিচালনা বা সম্পাদনা বা এর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অংশ নিতে পারবে না।” সহজ কথায় সরকারি কর্মচারীরা সরকারের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকাশক বা সংবাদপত্রের মালিক হতে পারবে না।
সরকারি পদ্মা কলেজের প্রভাষক মু.তারেক রাজিব সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি ও প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লংঘন করে ছাত্রদের ব্যবহার করে জোর করে দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি হয়েছেন।
দোহারের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র -আন্দোলন, দোহারের জাতীয় নাগরিক কমিটি, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এবং দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসির)র মৌখিক ও লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি রক্ষায় ৯ জানুয়ারি দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি পদপ্রার্থী কামরুল হাসানের মনোনয়নপত্র ও প্রার্থিতা বাতিল করে দোহার উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটি।
১৩ ই জানুয়ারি সরকারি বিধি ও প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লংঘন করে তরুণ ছত্রসমাজকে অপব্যবহার করে জোর করে মু. তারেক রাজীবকে বিনা ভোটে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
এই বিনা ভোটে নির্বাচিতরা পরবর্তীতে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লংঘন করে জুবায়ের আহমেদকে নিয়োগ দেন। যিনি এসএসসি পাস করেন নি। সরকারি বিধি ও প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লংঘন করে সরকারি পদ্মা কলেজের প্রভাষক আলমগীর হোসেন ও পদ্মা সরকারি কলেজের আরেক শিক্ষক (খণ্ডকালীন) মাহমুদুল হাসান সুমনকে দোহার প্রেসক্লাবের সদস্য করা হয় ।
নানা অভিযোগে মনোনয়নপত্র ও প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পরেও কামরুল হাসান প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের সদস্য হয় কীভাবে ? এতে গঠনতন্ত্র লংঘন হয় কিনা ? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসক্লাবের সভাপতি মু. তারেক রাজীব বলেন, ” উনি (কামরুল হাসান) সাধারণ সদস্য হিসেবে আছেন , কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নয় “।
প্রেসক্লাব ভেঙ্গে দিতে পারে কে ?
দোহার প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুসারে, প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদ গঠনতন্ত্র ও দেশের আইনবিরোধী কাজ করলে প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মহোদয় ঢাকা জেলা প্রশাসক ডিসি) ও প্রেসক্লাবের আরেক উপদেষ্টা ঢাকা জেলা পুলিশের এসপি সাহেব দোহার প্রেসক্লাব ভেংগে দিতে পারেন।