রাজনীতি নিয়ে লেখা সাময়িক ইস্তফা দিতে চেয়েছিলাম। ভাবছিলাম কিছুদিন প্রকৃতি আর খাবারদাবার নিয়ে থাকবো। কিন্তু ফেসবুক খুললেই দেখি আই হেইট পলিটিক্স পার্টির অতি পণ্ডিতি । তখন নিজেকে পলিটিক্সের চিন্তা থেকে নিবৃত্ত রাখা দুরূহ মনে হয়। পলিটিক্সের এই মাঠে সবচেয়ে কঠিন পথটা হচ্ছে যারা পলিটিক্স করে না কিংবা আই হেইট পলিটিক্স পার্টি, যারা পলিটিক্স ঘৃণা করে কিন্তু পলিটিক্সের সকল সুযোগ সুবিধা তারা গ্রহণ করবে। যাদের কোনো দর্শন নাই নিজস্ব কোনো চিন্তা নাই কথিত মেধাবী, মানে বই মুখস্থ করে স্কুল কলেজে বাহ বাহ পাওয়া গ্রুপ, তারাই এই দলকে লিড দেয়। পিআর পদ্ধতি নির্বাচন নিয়ে এদের খুব উৎসাহ। পীর সাহেব বা আমির সাহেব বলেছেন মানে এটাই ঠিক এমন একটা ভাব। কিন্তু এদের নিজের চিন্তা বলে কিছু নাই, কোনো একজনের লেখা দেখলো কপি করে পেস্ট করে দিলো। আমি এদের মন্তব্যগুলো খুব উৎসাহ নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি। ভাবতে থাকি এই সমাজ ,এই দেশ সারাজীবন এদেরকেই তুলো তুলো করে বড়ো করলো। এরা এই সমাজ্এই দেশকে কী দিলো? দালালি ছাড়া কিছু কি দিতে পারছে ?মুয়াম্মার গাদ্দাফির একটা বই আছে ‘দ্য গ্রিন বুক’ সবুজ গ্রন্থ। সবুজ ডেমোক্রেসি নামের একটা জনপ্রিয় কনসেপ্টও আছে প্রচলিত। ১৯৭০ সালের পর থেকে সবুজ ডেমোক্রেসির প্রচলন শুরু হয়। এর মূল কনসেপ্ট হলো ‘পরিবেশগতভাবে টেকসই সমাজ গঠন করা। যেখানে পরিবেশ এবং সমাজের একটি সুস্থ সম্পর্ক বজায় থাকে’। এটি তৃণমূল গণতন্ত্রের উপর ভিত্তি করে পশ্চিমা দেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে এবং নির্বাচনের সাফল্য পাইছে। গাদ্দাফির সবুজ গ্রন্থের একটা ধারণা কপি করে কথিত মেধাবী পোলাপানগুলো প্রচার করতেছে। ধারণা এমন, ধরেন ২০℅ ভোট ভোটাররা দিলো না। জয়ী প্রার্থী পেলো ৩০% ভোট আর অন্য ৩ জন প্রার্থীরা পেলো ৫০% ভোট। মাত্র ৩০% ভোট নিয়ে একজন এলাকায় মাতব্বরি করবে। তাই পিআর পদ্ধতি নির্বাচন দিতে হবে। আমার প্রশ্ন যে ২০% ভোট পড়লো না তাদেরকে কীভাবে পিআর দেওয়া হবে ? তারাও তো রাষ্ট্রের নাগরিক। তো যাকে আমি নেতা নির্বাচন করলাম তাকে না চিনে কেনো আমি শুধু বদনা মার্কা দেখে ভোট দিবো ? সবুজ গ্রন্থে একটা উক্তি আছে “মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিটি ব্যক্তির স্বাভাবিক অধিকার, এমনকি যদি তারা অযৌক্তিক আচরণ করতে পছন্দ করে, তবু তার উন্মাদনা প্রকাশ করার”।এই উক্তি যার গ্রন্থে তার আমলে, সবুজ গ্রন্থ পড়া ছিলো স্কুলে বাধ্যতামূলক। রাস্তায় রাস্তায় বিলবোর্ডে লেখা ছিলো সবুজ গ্রন্থ থেকে বিভিন্ন উক্তি। সবুজ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড ‘গণতন্ত্রের সমস্যার সমাধান’ ( জনগণের কর্তৃত্ব) অথচ তার আমলে গণতন্ত্র বলে কিছু ছিলো বলে মনে হয় না। জনগণে কর্তৃত্ব অনেক পরের বিষয়। পিআর পদ্ধতি কোনো স্বাভাবিক মানুষের চিন্তার হতে পারে না এটা চিন্তা করতে হলে লুনাটিক হয়ে যেতে হবে ; নয়তো আমির সাহেবের অনুসারীদের মতো কথিত মেধাবী হতে হবে। বলা হচ্ছে নমিনেশন বাণিজ্যের কথা । পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সেখানে দলীয় প্রধান আরো বেশি বাণিজ্য করার সুযোগ পাবে।দলীয় রাজনীতি বলে কিছু থাকবে না। তখন রাজনৈতিক দল হয়ে পরবে মাল্টিগ্রুপ কোম্পানি। নমিনেশন বাণিজ্য করে খারাপ লোককে নমিনেশন দিলে আপনার ভোটের মাধ্যমে তাকে পরাজিত করার সুযোগ আছে। আর পিআর পদ্ধতিতে যাকে তাকে টাকা নিয়ে বসালেও আপনার কিছু করার থাকবে না। পিআর পদ্ধতি নির্বাচন মানে ধোঁকাবাজি । ভোটারদের সাথে এটা পুরোপুরি ফাজলামি সিস্টেম।আবুল বাশারআইনজীবী।