দোহার পৌরসভার ২০২৫ – ২০২৬ অর্থবছরে এক উদ্ভট বাজেট ঘোষণা করেছেন দোহার পৌরসভার প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম। দোহার পৌরসভায় কোনো মেয়র- কাউন্সিলর দায়িত্বে না থাকলেও ২০২৫ – ২০২৬ অর্থবছরে তাদের সম্মানী বাবদ ১০০০,০০০.০০( দশ লাখ) বরাদ্দ রেখেছেন। শুধু তাই নয় ১৯ আগস্ট ২০২৪ দোহার পৌরসভার মেয়র ও ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ দোহার পৌরসভার কাউন্সিলররা অপসারিত হলেও তাদের জন্য ২০২৪ – ২০২৫ অর্থবছরে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫০,০০০ ( ৭ লাখ ৫০ হাজার) টাকা।
জানা যায় ৫ আগস্ট থেকে দোহারের মেয়র ও কাউন্সিলররা পলাতক। তাহলে তারা সম্মানী নিল কীভাবে?
১৯ আগস্ট দোহার পৌরসভার মেয়র অপসারিত হলে নিয়ম অনুসারে তিনি মাত্র জুলাই মাসের সম্মানী পাবেন। আর ২৪ সেপ্টেম্বর অপসারিত হওয়ায় ১২ জন কাউন্সিলর জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্মানী পাবে।
মেয়রকে আগস্ট মাসের ১৮ দিনের সম্মানী ও কাউন্সিলরদের সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ দিনের সম্মানী যোগ করে কী তাদের মোট ৫৩৯,৬৮৫ টাকা আর সংশোধিত ব্যয়ে ৭৫০০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে ?
এ ছাড়াও ফটোস্ট্যাট মেশিন মেরামত এবং এর এক্সেসরিজ ক্রয় বাবদ ২০০,০০০ ( দু লাখ) টাকা, প্রচার ( মাইকিং) এর জন্য ১০০,০০০ ( এক লাখ) টাকা, বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০০,০০০ (দু লাখ) টাকা। মনোহারী দ্রব্যাদি ( পেন্সিল, স্ট্যাপ্লার,ঝাড়ু ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস) এর জন্য ৬০০,০০০ ( ছয় লাখ) টাকা, সাধারণ ও কর এর মুদ্রণের জন্য ৮০০,০০০ ( আট লাখ) টাকা, শহর সমন্বয় কমিটি’র কার্যক্রম ব্যয় ৩০০,০০০ ( তিন লাখ) টাকা, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ২০০,০০০ ( দু লাখ) টাকা, নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত ব্যয় ৫০০,০০০ ( পাঁচ লাখ) টাকা, বাজেট সংক্রান্ত ব্যয় ৩০০,০০০ ( তিন লাখ) টাকা ধরে ব্যয় করার জন্য ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেটে সরকারি বিধি লংঘনের দায় কার?
পৌরসভা বাজেট ( প্রণয়ন ও অনুমোদন) বিধি অনুযায়ী বিধি লংঘন করে অর্থ ব্যয় করা হলে এর দায় ব্যক্তিগতভাবে পৌরসভার চেয়ারম্যানের বা মেয়রের বা বর্তমানে পৌর প্রশাসকের।
প্রাপ্ত তথ্য অধিকতর যাচাই করতে দোহার পৌর প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুমের কাছে তথ্য অধিকার আইনে প্রস্তাবিত ২৭ তম বাজেটের বিস্তারিত বিবরণী চাইলে তিনি বাজেট অনুমোদন হওয়ার পর দিবেন বলে জানান।