ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি প্রাপ্তির আবেদন চেয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আব্দুর রাফিউল ইসলাম ১৫ জুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞতিতে ২২ জুনের মধ্যে আগ্রহী ব্যক্তিদের কম্পিউটার কম্পোজকৃত আবেদনপত্রের সাথে চাহিত অন্যন্য কাগজপাত্রাদির পিডিএফ কপি অফিস চলাকালীন ইমেল বা সরাসরি ডিসি অফিসে মাত্র ৬ কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি ১৭ জুন রাত ২টা ৫৫ মিনিটে পোস্ট করা উপজেলা প্রশাসন দোহার ঢাকা এর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দোহারের মানুষ প্রথম জানতে পারে। দোহার উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যারা বিজ্ঞপ্তিটি জানতে পেরেছে তাদেরকে ১৮,১৯,২২ এই তিন কর্মদিবসের মধ্যে আবেদনপত্রটি জমা দিতে হবে ।
আবেদনকারীর যোগ্যতার ৮নং শর্তে বলা হয়েছে’ এলাকাভেদে উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত হালনাগাতকৃত ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।‘ নারিশা ইউনিয়ন ও দোহার পৌরসভা থেকে জানা যায় ট্রেড লাইসেন্স বানাতে ৭ দিন সময় লাগে। তাহলে যারা দোহার উপজেলার ফেসবুক পেজ থেকে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে আবেদন করতে চায় তারা কীভাবে এই তিন কর্মদিবসে আবেদন করবে ?
আবেদনকারীর ১ নং শর্তেবলা হয়েছে ‘ কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হতে ডিপ্লোমা বা স্নাতকধারীদের বা সরকারি অন্যান্য দপ্তরের অনুরূপ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবেদনকারীর যোগ্যতার ১১ নং শর্তে বলা হয়েছে ‘ সপ্তাহে শনিবার হতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র খোলা রাখতে হবে । প্রশ্ন হচ্ছে সরকারি অন্যান্য দপ্তরের অনুরূপ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীরা শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার নাগরিকদের কীভাবে সেবা প্রদান করবে? বেকারদের অগ্রাধিকার না দিয়ে তাদের কর্মসংস্থান না করে ডিসি সাহেব যারা কাজে নিয়োজিত তাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন কেনো ?
আবেদনকারীর যোগ্যতার ৪ নং শর্তে বলা হয়েছে ‘নিজস্ব ভূমি বা চুক্তিমূলে ন্যূনতম ২ বছর মেয়াদে এলএসএফসি স্থাপনের জন্য অন্যূন মোট ৮০ ( আশি)বর্গফুট মেঝে সম্পন্ন স্থাপনা থাকতে হবে। একজন নারী বা কম্পিউটারে নব্য ডিপ্লোমা বা স্নাতক ডিগ্রিধারীর ৩ বা ৬ কর্মদিবসের মধ্যে এ ধরনের চুক্তি করা কি এতটাই সহজ!
আবেদনকারীর যোগ্যতার ১০ নং শর্তে বলা হয়েছে ‘ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ ও ন্যূনতম ১০ এমবিপিএস গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি থাকতে হবে এবং বিকল্প বিদ্যুৎ সরবারাহ থাকতে হবে। আবেদনের যোগ্যতার ৬ নং শর্তে বলা হয়েছে ‘ সহায়তাকারী ও তার নিয়োজিত কম্পিউটার কর্মীগণ কোনোভাবেই ফৌজদারি অপরাধে চার্জশিটভুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হবেন না। নিয়োজিত কম্পিউটার কর্মীগণ চার্জশিটভুক্ত কীনা তা যাচাই করার জন্য তো সময় প্রয়োজন।
বিজ্ঞপ্তির অস্পষ্টতা নতুন আবেদনকারীদের জন্য রহস্যজনক । আবেদনকারীকে যোগ্যতার ১ হতে ১৮ নং শর্তগুলো পূরণ করা একজন নতুন উদ্যোগতার পক্ষে ৩,৫ বা ৬ কর্মদিবসের মধ্যে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দীর্ঘ দিনের ভূমি সংশ্লিষ্ট অই দালালদের পক্ষেই সম্ভব যারা বছরের পর ধরে অফিস নিয়ে ঘুসের রাজত্ব কায়েমে সহযোগিতা করছেন। যদি শুধু ভূমি সহায়তাকেন্দ্রগুলোতেই ভূমি সেবার অনলাইন কার্যক্রমগুলো সীমাবদ্ধ রাখা হয় তাহলে জনগণ এই ভূমি সহায়তা কেন্দ্রগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে যাবে। ভূমিসেবার ভোগান্তি ও খরচ দুটোই বাড়বে। সরকার যদি ভূমি সেবায় জনগণের প্রতি আন্তরিক হয় তা হলে ভূমি দালালদের প্রতি ডিসি সাহেবের এত দরদ কেন ?