অপরাধ না করেও শাস্তি
একটা সুইসাইড নোট ফেসবুকে ঘুরতেছে, দেখি আইন অনুযায়ী এই সুইসাইড নোটের ভিত্তি কতটুকু। প্রথমে সুইসাইড নোটে কী আছে সেটা নিয়ে একটু বলি। দুটি জিনিস আমার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ি না!’ – এখানে উনি আশ্চর্যবোধক চিহ্ন দিয়েছেন। এটা কোনো লেখায় কেনো ব্যবহৃত হয় সেটা নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, ‘বউ যেনো সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে!’ এখানেও উনি আশ্চর্যবোধক চিহ্ন দিয়েছেন। মৃত্যুর আগে উনার এই দুইটা লাইন লেখার সময় কী অনুভূতি হয়েছিল তা আমরা হয়তো কেউ জানবো না তবে ধারণা করতে পারবো কিছুটা। এবার হুবহু দেখি সুইসাইড নোটে কী আছে, “আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী না! আমিই দায়ী ! কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না! বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে! মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের উপর! তারা যেন মাকে ভালো রাখে! স্বর্ণ বাদে যা আছে তা মায়ের জন্য! দিদি যেন কো অর্ডিনেট করে..!
এখানে উনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ‘কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না!’ এই নোট পড়ে আমার ফিল হয়েছে অসৎ উপায়ে অর্থ সম্পদ উপার্জন করে কাউকে ভালো রাখা যায় না। প্রচণ্ড আর্থিক দৈন্যদশার ভেতর পড়ে চিন্তা একটু অসৎ দিকে মুভ করলেই মনে হয় জীবন কয়দিনের? কাটুক না হয় একটু অর্থের দৈন্যদশার । এই ফিলটাই কয়জনে পারে উপভোগ করতে?
এই আত্মহত্যার বিষয়টা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে শুধু উচূ চাকরি করে তাই। পারিবারিক কলহ থাকবে তাই বলে আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কোনো সভ্য চিন্তার হতে পারে না।
একটা ঘটনা বলি। ঘটনাটা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। দুই একটা আড্ডাতে বলেছিলাম। ঘটনা হচ্ছে , একটা ব্যাংক কেলেংকারি নিয়ে। যে গ্রাহকের টাকা নিয়ে কেলেঙ্কারি হয়েছে উনি আম্লিকের নেতা। উনার কোটি টাকার মতো এক ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মেরে ইউরোপ চলে গেছে। এটা জানার পর প্রথম অনুভূতি হয়েছে , এই গ্রাহক এই কোটি টাকা জমাইতে গিয়ে কতজনের সাথে নয় ছয় করেছে ? আর উনার টাকা একজনেই মেরে চলে গেছে! ভাবুন, কিছু ঘটনা আমার কাছে ভাবনার খোরাক জোগায়।
বলতে চেয়েছিলাম সুইসাইড নোট নিয়ে আইন কী বলে । সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারায় ‘আত্মহত্যাকারীর মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া সুইসাইড নোট প্ররোচনাদানকারীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।’ উক্ত সুইসাইড নোটটি বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছু বের হয়ে আসবে। আমি আইনের বিশেষজ্ঞ নই , আইনের ছাত্র, এসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে তৃপ্তি পাই। দণ্ডবিধিতে একমাত্র শাস্তি হচ্ছে আপনি অপরাধ না করে শুধু চেষ্টা করলে শাস্তি আত্মহত্যার চেষ্টা। দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী যদি কোনও ব্যক্তি আত্মহত্যা করার উদ্যোগ নেন এবং অনুরূপ অপরাধ করার উদ্দেশ্যে কোনও কাজ করেন তাহলে তার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থ দণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। কেউ আত্মহত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ হলে সেই ব্যক্তিকে আত্মহত্যা বা নিজেকে ধ্বংস করার অপচেষ্টার অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, তাহলে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সাহায্য করবে বা প্ররোচনা দান করবে, সে ব্যক্তিকে ১০ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। আইন আছে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নাই। আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের আইন অনুযায়ী সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হোক ।
আবুল বাশার
এলএলবি অনার্স, এলএলএম, এমএসএস ইন আইআরএলএস।
মতামতটি লেখকের নিজস্ব ।সম্পাদক দায়বদ্ধ। কেউ এ লেখাটির বিষয়ে কিছু বলতে চাইলে agamirdeshbd@gmail.com এই ঠিকানায় ইমেল করতে পারেন।